





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঘন্টা বা ঘুঙুর শয়তানের বাঁশি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, সব ঘুঙুর চতুষ্পদ জন্তুর গলায় ঝুলানো হয়, তা শয়তানের অস্ত্রসমূহের একটি অস্ত্র; যা দ্বারা সে তার বন্ধুদেরকে তাদেরকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে বিরত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য থেকে ফিরিয়ে রাখে।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে দিন ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতো সে দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ মেঘের কল্যাণ কামনা করছি এবং এর মধ্যে যে সব কল্যাণ রয়েছে এবং যে কল্যাণ নিয়ে তা প্রেরিত হয়েছে তাও এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর ক্ষতি থেকে, এর মাঝে যে ক্ষতি রয়েছে তা থেকে এবং যে মন্দের জন্য একে পাঠানো হয়েছে তা থেকেও।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ম ছিলো যখন ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতো তখন তিনি বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ এবং এর মধ্যে যে সব কল্যাণ রয়েছে তা কামনা করছি। আল্লাহর সৃষ্ট বাতাস দু’ধরনের। প্রথম প্রকার: স্বাভাবিক বাতাস যাতে কোনো ভয়ভীতি নেই। এ বাতাসের জন্য কোনো সুন্নাত যিকির নেই। দ্বিতীয় প্রকার: ঝড়ো হাওয়া, এতে রয়েছে ভয়ভীতি। কেননা আল্লাহ ‘আদ জাতিকে এ ধরনের ঝড়ো হাওয়ার দ্বারা শাস্তি দিয়েছিলেন। (আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি) সুতরাং যখন ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হবে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী নিম্নোক্ত দো‘আ পড়ুন: (اللَّهُمَّ إنِّي أسْأَلُك خَيرها وخير ما فيها وخَير ما أُرسِلت به، وأعوذ بك من شرِّها وشرِّ ما فيها وشرِّ ما أُرسِلت به) “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ কামনা করছি, এর মধ্যে যে সব কল্যাণ রয়েছে এবং যে কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছে তাও এবং আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে এবং যে মন্দের জন্য একে পাঠানো হয়েছে তা থেকে।” অর্থাৎ এ বাতাসের কল্যাণ কামনা করছি এবং এর মধ্যে যে সব কল্যাণ রয়েছে যা সে বয়ে নিয়ে আসে। (وخير ما أُرسِلَت به) এবং যে কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছে সে কল্যাণও কামনা করছি। কেননা বাতাস কখনো কখনো কল্যাণের উদ্দেশ্যে আবার কখনো অকল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। সুতরাং আল্লাহর কাছে যে কল্যাণের উদ্দেশ্যে বাতাস প্রেরিত হয়েছে তা কামনা করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (وأعوذ بك من شرِّها وشرِّ ما فيها وشرِّ ما أُرسِلت به) এবং আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে এবং যে মন্দের জন্য একে পাঠানো হয়েছে তা থেকে। অর্থাৎ ঝড়ো হাওয়ার অকল্যাণ ও তা যে সব অকল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। কেননা তা কখনো কোনো জাতির জন্য আযাব হিসেবে প্রেরণ করা হয়। সুতরাং তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাও। আর মানুষ যখন বাতাসের অকল্যাণ ও তা যে সব অকল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে তা থেকে আশ্রয় চায় তাহলে আল্লাহ সে সব অকল্যাণ থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তিনি এর কল্যাণ দ্বারা তাকে উপকৃত করেন। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ, (৩/১১১৫); মির‘আতুল মাফাতীহ, (৫/১৯৭); শরহে রিয়াদুস সালিহীন, ইবন উসাইমীন (৬/৪৭১-৪৭২)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “বায়ু আল্লাহর আশীষ, যা রহমত আনে এবং আযাবও আনে। কাজেই তোমরা যখন তা প্রবাহিত হতে দেখবে, তখন তাকে গালি দিও না। বরং আল্লাহর নিকট তার কল্যাণ প্রার্থনা কর এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাও।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটির অর্থ: “বায়ু আল্লাহর আশীষ” অর্থাৎ তার বান্দাদের প্রতি তার রহমত। “রহমত আনে এবং আযাবও আনে” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের প্রতি রহম করে বাতাস প্রেরণ করেন। ফলে তা দ্বারা মানুষের বরকত ও কল্যাণ লাভ হয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলার কথায় তা স্পষ্ট হয়, আল্লাহ বলেন, “আর আমরা বায়ুকে ঊর্বরকারীরূপে প্রেরণ করি” এবং আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন ফলে তা মেঘ-মালাকে ধাওয়া করে; অতঃপর তিনি মেঘ-মালাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দেন, ফলে তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বারিধারা”। অনুরূপ তার বাণী: “আর তিনিই তাঁর রহমতের পূর্বে সুসংবাদরূপে বাতাস প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন তা ভারি মেঘ ধারণ করে, তখন আমরা তাকে চালাই মৃত ভূমিতে, ফলে তার দ্বারা পানি অবতীর্ণ করি”। আবার কখনো তা আযাব নিয়ে আসে। যেমন, আল্লাহর বাণী: “তারপর আমরা তাদের ওপর অশুভ দিনগুলোতে ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠালাম যাতে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব আস্বাদন করাতে পারি।” আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় আমরা তাদের ওপর পাঠিয়েছিলাম প্রচণ্ড শীতল ঝড়ো হাওয়া, অব্যাহত এক অমঙ্গল দিনে। তা মানুষকে উৎখাত করেছিল, যেন তারা উৎপাটিত খেজুরগাছের কাণ্ড”। তার বাণী: (তখন তারা বলল, ‘এ মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে’। (হূদ বলল,) বরং এটি তা-ই যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে। এ এক ঝড়, যাতে যন্ত্রণাদায়ক আযাব রয়েছে’।) “যখন তা দেখবে তখন তোমরা তাকে গালি দিবে না।” অর্থাৎ, একজন মুসলিমের জন্য বাতাসকে গালি দেওয়া বৈধ নয়। কারণ, তা আল্লাহর সৃষ্টি, তার নির্দেশে নির্দেশিত। মহান আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ক্ষতি বা উপকারের ক্ষেত্রে তার কোন প্রভাব নেই। সুতরা, তাকে গালি দেওয়া মানে তার পরিচালক ও স্রষ্টাকেই গালি দেওয়া। আর তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। “আল্লাহর নিকট তার কল্যাণ প্রার্থনা কর এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর।” অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতাসকে গাল দেওয়া থেকে নিষেধ করার পর তা প্রবাহিত হওয়ার সময় তার মধ্যে যে কল্যাণ রয়েছে তা চাওয়া এবং তার মধ্যে যে অনিষ্ট রয়েছে তা থেকে আশ্রয় চাওয়ার প্রতি দিক নির্দেশনা দেন। অর্থাৎ তারা যেন আল্লাহর নিকট এ প্রার্থনা করে যে, তা যে কল্যাণ বহন করে তা যেন তাদের জন্য বাস্তবায়ন হয় আর যে সব অকল্যাণ বহন করে তা যেন তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইবন উসাইমীনের কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা আল-কাওলুল মুফীদ (২/৩৭৯) ইবন উসামীনের রিয়াদুস সালেহীনের ব্যাখ্যা (৬/৪৭০) হাযেমীর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা, ইলেক্ট্রনিক্স সংস্করণ। আল্লামা আব্বাদের আবূ দাঊদের ব্যাখ্যা, ইলেক্ট্রনিক্স সংস্করণ।
বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মুনাফিকদের সাইয়েদ বলবে না। কেননা তোমরা যদি তাদের সাইয়েদ বলো তবে তোমরা তোমাদের মহান রবকে অসন্তুষ্ট করবে।”
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসের অর্থ: মুনাফিক যদি কোনো অর্থে তার জাতির সাইয়্যেদ তথা সর্দার হয় তথা সে তার সম্প্রদায়ের বড় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবার কারণে তোমরা তাকে সর্দার বল, তাহলে তোমরা তোমাদের রবকে অসন্তুষ্ট করলে। কেননা সর্দার বলা হয় সম্মান প্রদর্শনের জন্য; অথচ মুনাফিক সম্মানের যোগ্য নয়। আর সে যদি তার জাতির প্রকৃত সর্দার না হয় অথবা জাতির মধ্যে প্রবীন ব্যক্তি না হয়, তাহলে তাকে সর্দার বলা হলো মিথ্যা ও মুনাফিকী। তাহলে উভয় অবস্থাতেই মুনাফিককে সর্দার বলা নিষেধ। মুনাফিকের অনুরূপ কাফির, ফাসিক ও বিদ‘আতীকে সর্দার বলা যাবে না। কেননা তারা মোটেও এ সম্মানের যোগ্য নয়। দেখুন, মিরকাতুল মাফাতীহ, (৭/৩০০৯); শরহে সুনান আবূ দাউদ, লিল ‘আব্বাদ, ই-কপি।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ছোট বা বড় কোন পাপ করতে আমি ছাড়িনি। তিনি বললেন: “তুমি কী এ সাক্ষ্য দাওনা যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল?” (তিনবার), তখন ঐ ব্যক্তি বললেন: হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এটি ঐসবের (পাপের) উপরে প্রাধান্য পাবে।”
এটি আবু ইয়ালা, তবারানী ও যিয়া আল-মাকদাসী বর্ণনা করেছেন।এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ছোট-বড় সব ধরণের পাপ ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়েছি। ছোট বা বড় এমন কোন পাপ নেই, যা আমি করিনি। আমাকে কী ক্ষমা করা হবে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: তুমি কী এ কথার সাক্ষ্য দাওনি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন। তখন ঐ ব্যক্তি জবাব দিলেন: হ্যাঁ, আমি এ কথার সাক্ষ্য দেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাহাদাতাইন (তাওহীদ ও রিসালাতের দুটি সাক্ষ্য)-এর ফযীলতের ব্যাপারে এবং তা দ্বারা পাপসমূহকে ক্ষমা করার বিষয়ে অবহিত করলেন। আর (এটাও অবহিত করলেন যে,) তাওবা তার পূর্বে করা সকল গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আলিমদের সাথে বড়াই করার জন্য ইলম শিখবে না, নির্বোধের সাথে বিতর্ক করার জন্যও নয়, আর তা দ্বারা মজলিসে উত্তম স্থান দখল করো না, যে এসব কারণে তা শিখবে, তার জন্য রয়েছে: আগুন, আগুন।”
এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ব ও বড়াই করার উদ্দেশ্যে যেমন: আমিও আপনাদের মত আলিম এটা প্রকাশ করা, অথবা নির্বোধ বা বোকাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করা অথবা অন্যান্যদের থেকে আলাদাভাবে প্রাধান্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মজলিসে প্রধান হিসেবে স্থান অলঙ্কৃত করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জ ন করা থেকে সতর্ক করেছেন। যে ব্যক্তি এ ধরণের কাজ করবে; রিয়া ও ইলম শিক্ষায় এখলাস না থাকার কারণে সে জাহান্নামের উপযুক্ত হবে।
নাওয়াস ইবনু সাম‘আন আল-আনসারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে , তিনি বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা সিরাতে মুস্তাকীমের একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। যার দু’দিকে দু’টি দেয়াল রয়েছে। যাতে অনেকগুলো খোলা দরজা রয়েছে এবং তাতে ঝুলানো পর্দা রয়েছে। আর দরজায় একজন আহবায়ক আহবান করছে: হে লোকেরা! সোজা পথে এসো বাঁকা পথে যেও না। আর একজন আহবানকারী উপরে রয়েছেন। যখনই কোন বান্দা সে দরজাগুলোর কোন একটি দরজা খুলতে চায়, তখনই তিনি তাকে বলেন, সর্বনাশ! এ দরজা খুলো না। যদি তুমি এটা খুলে ফেলো, তাহলে ভিতরে ঢুকে যাবে। সরল-সুদৃঢ় পথটি হলো ইসলাম। দেয়াল দুটি হচ্ছে: আল্লাহর সীমা রেখা, খোলা দরজার অর্থ হচ্ছে ঐ সব জিনিস যা আল্লাহ তা’আলা হারাম করেছেন। পথের মাথার আহবানকারী হচ্ছে: আল্লাহর কিতাব। আর উপরের আহবানকারী হচ্ছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত নাসীহাতকারী, যা প্রত্যেক মু’মিনের অন্তরে রয়েছে।”
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের উদাহরণ দিয়েছেন সরল-সুদৃঢ় বক্রতাবিহীন প্রশস্ত পথের ন্যায়। এ পথের দুই ধারে দুটি পর্দা বা আবরণ রয়েছে, যা দ্বারা পথটি দু’দিক থেকে বেষ্টিত রয়েছে, এ পর্দা দুটি হচ্ছে: আল্লাহর সীমারেখা। এ দুটি দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে অনেকগুলো উন্মুক্ত দরজা রয়েছে, যেগুলো হচ্ছে: আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিষয়সমূহ। ঐ সমস্ত দরজার উপরে এমন পর্দা রয়েছে, যা পথিকের সামনে তার ভিতরের ব্যক্তিকে প্রকাশ করে না। এ পথের শুরুতে একজন আহবানকারী থাকেন, যিনি মানুষকে দিক-নির্দেশনা দেন এবং তাদেরকে সঠিক পথ বাতলে দেন আর বলতে থাকেন: তোমরা এ পথ অতিক্রম করবে, তবে কোনদিকে বেঁকে যাওয়া বা হেলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। এ আহবানকারী হচ্ছে: আল্লাহর কিতাব। এছাড়াও সেখানে পথের উপরে আরো একজন আহবানকারী রয়েছেন, যখনই পথের মধ্যে কোন পথিক উক্ত দরজাসমূহের উপরে থাকা পর্দাসমূহকে সামান্য পরিমাণ খুলে ফেলতে উদ্যত হয়, তখনই তিনি তাকে বলেন: তোমার ধংস (হায় হায়), তুমি এটি খুলো না। যদি তুমি তা খুলে ফেল, তবে সেখানে ঢুকে পড়বে, আর তুমি সেখানে প্রবেশ করা থেকে নিজেকে কোনভাবেই বিরত রাখতে পারবে না। এ আহবানকারী হচ্ছে: প্রতিটি মুসলিমের অন্তরে বিদ্যমান নসীহতকারী সত্তা।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, সে যখন তার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে, তখন সেখানে সে তিনটি বড় হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উটনী দেখতে পাবে?” আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে তিনটি আয়াত পাঠ করা তার জন্য বড় তিনটি গর্ভবতী উটনী থেকেও বেশী উত্তম।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে তিন আয়াত পরিমাণ তেলাওয়াতের সওয়াব সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, কোন ব্যক্তির খুব বড়সড় তিনটি গাভীন উটনী পাওয়ার চেয়েও এটা বেশী কল্যাণকর।
‘উকবা ইবনু ‘আমির আল-জুহানী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রকাশ্যে কুরআন তেলাওয়াতকারী প্রকাশ্যে সদাকাকারীর ন্যায় আর গোপনে কুরআন তেলাওয়াতকারী গোপনে সদাকাকারীর ন্যায়।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, কুরআন প্রকাশ্যে পাঠকারী ব্যক্তি হচ্ছে প্রকাশ্যে দান-সাদকা করে এমন ব্যক্তির ন্যায়। আর গোপনে কুরআন পাঠকারী হচ্ছে গোপনে সদকাকারী ব্যক্তির ন্যায়।